মুভি রিভিউ

এই পৃথিবীতে প্রায় সবাই, তার থেকে বিপরীত স্বভাবের মানুষের সাথে প্রেমে পড়ে

এই পৃথিবীতে প্রায় সবাই, তার থেকে বিপরীত স্বভাবের মানুষের সাথে প্রেমে পড়ে। -( হুমায়ুন আহমেদ )। কাহিনীর সুচনা জয়া শশীধরণ নামের মধ্যবয়সী একজন বিধবা নারীকে নিয়ে। একা একাই থাকেন নিজের মতো করে। স্বামীর মৃত্যুর বহুদিন হয়ে গেলেও তার দেওয়া আংটিটা এখনও তার আঙুলে বহন করে চলছেন।

এই পৃথিবীতে প্রায় সবাই, তার থেকে বিপরীত স্বভাবের মানুষের সাথে প্রেমে পড়ে

একজনের আয় এবং একজনের ব্যায়, এভাবেই চলে উনার জীবন। একদা কৌতূহল বশত উনি ‘আব তাক সিঙ্গেল’ নামক এক ডেটিং সাইটে একটা একাউন্ট খুলেন। আর ওখানেই উনার পরিচয় হয় যোগী নামের রহস্যময় এক কবির সাথে। তার ছবি দেখেই যোগী সাফসাফ জানিয়ে দেয় উনাকে তার ভালো লেগেছে এবং যোগি তাকে দেখা করার প্রস্তাব দেয় এবং সেও রাজি হয়।

একদিন তারা দেখা করে এক রেস্তোরাঁয়। জয়ার কাছে মনে হতে থাকে সে যোগিকে যেমনটা ভেবেছে, আসলে সে সেরকম নয়। তার অতিরিক্ত বকবকানির কারণে জয়ার কাছে থাকে খুব বিরক্তিকর মনে হতে থাকে। তাই সে চলে যেতে চায়, কিন্তু যোগী তাকে যেতে দেয়না।

কিন্তু ধীরে ধীরে যখন সে যোগীর সাথে যতবেশি সময় কাঁটাতে লাগলো, ততই তার রহস্যের জ্বালে আটকে পড়তে থাকলো। যতই তার কাছ থেকে দুরে যেতে চায়লো, ততই কাছে চলে গেলো। একদিন কথার মাঝে যোগী জানায়, তার এর পূর্বেও আরও তিনজনের সাথে সম্পর্ক হয়েছিলো। এবং সে আরও জানায় যে, ঐ মেয়েগুলো তাকে এখনও ভালোবাসে। তখন জয়া একটা অবিশ্বাসের হাসি দিয়ে বুঝাতে চায় যে, সে তার এই কথায় খুব একটা বিশ্বাসী নয়।

তুমি যদি চাও আমি তোমাকে প্রমাণ দেখাতে পারি

সেটা দেখে যোগী তাকে প্রস্তাব দেয়,” তুমি যদি চাও আমি তোমাকে প্রমাণ দেখাতে পারি। আমি তোমাকে তাদের কাছে নিয়ে যেতে পারি।” সাথে ভ্রমণের সকল খরচও সে বহন করবার প্রতিশ্রুতি দেয়। প্রথম প্রথম জয়া না যেতে চাইলেও অবশেষে রাজি হয় এবং তারা উভয়ে বেড়িয়ে পড়ে।

এখান থেকেই শুরু মুভির আসল কাহিনী। তাদের অসাধারণ এই ভ্রমণ এবং ভ্রমণের মাঝখানের দারুণ সব অভিজ্ঞতা পরিচালিকা এতো সুনিপুণ ভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন যে, আপনার মনে হবে আপনিও তাদের সাথে আছেন, তাদের সাথেই দেখছেন।

অন্যান্য রোমান্টিক সিনেমাগুলোর মতো নয় এই সিনেমাটা। সেটা সিনেমার থিম দেখলেই বুঝবেন, “saat jeene marne wali love story nahi hai humari” একেবারে অন্যরকম একটা সিনেমা। একেকজনের রুচি একেকরকম হতেই পারে, তবে আমার কাছে দারুণ লেগেছে এটি। করোও মন খারাপ থাকলে একদম মন ভালো করে দেওয়ার মতো সিনেমা। ইরফান খানের মৃত্যুতে সত্যিই বলিউড এক লিজেন্ড অভিনেতাকে হারিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *